বিশেষ করে, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাতের প্রসারে তামার অপরিহার্য ব্যবহার এ ধাতুকে ঘিরে নতুন চিন্তার জন্ম দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং বড় দেশগুলোর আধিপত্য তামার বাজারকে এক সংকটময় পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৪০ সাল নাগাদ বিশ্বে তামার চাহিদা বেড়ে ৪ কোটি ২০ লাখ টনে পৌঁছবে। এটি বর্তমান চাহিদার তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। একদিকে যখন বিদ্যুতায়ন ও গ্রিড সম্প্রসারণের জন্য তামার চাহিদা তুঙ্গে, অন্যদিকে খনি থেকে এর উত্তোলন দিন দিন কমে আসছে। খনি খাতে বিনিয়োগের অভাব এবং উৎপাদন পর্যায়ের নানা চ্যালেঞ্জ এ সংকটকে আরো ঘনীভূত করছে।
বর্তমানে বিশ্বের তামার খনিগুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মাত্র ছয়টি দেশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে তামা পরিশোধনের ৪০ শতাংশ বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে চীন। এ একক আধিপত্যের কারণে ২০২৫ সালেই হোয়াইট হাউজ তামাকে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ হিসেবে ঘোষণা করে। বিদেশী শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকি কমাতেই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে চীনের একটি সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। চলতি বছরের মে মাস থেকে দেশটি সালফিউরিক অ্যাসিড রফতানি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে। তামা উৎপাদনে এ অ্যাসিড অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। গোল্ডম্যান স্যাকসের মতে, এ সিদ্ধান্তের ফলে চিলিতে বার্ষিক প্রায় দুই লাখ টন তামা উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় ১ শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনাও তামার বাজারকে অস্থিতিশীল করে তুলছে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার শঙ্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
তামা এখন কেবল বাজার নয়, বরং বিশ্ব রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে।